আমাদের সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু উপাচার ব্যবহৃত হয়ে থাকে যার মধ্যে শঙ্খ অন্যতম। শঙ্খ হল এক ধরণের সামুদ্রিক শামুক। এর যার বৈজ্ঞানিক নাম “Turbinella Pyrum”। এটি হিন্দু ও বৌদ্ধ এবং জৈন প্রভৃতি ধর্মে পূজার উপাচার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
“যর্জুবেদ” এবং আধুনিক বিজ্ঞান এর ভাষ্যমতে শঙ্খ থেকে উৎপন্ন কম্পন যে তরঙ্গের সৃষ্টি করে তা বাতাসের সাথে মিশে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে। নিয়ম মাফিক শঙ্খ বাজালে, বাদকের মস্তিষ্কের গোড়ার সুষুম্না কাণ্ড সতেজ থাকে, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রাজসিক ও তমসিক তরঙ্গের অন্তর্গত তেজ ও বায়ুর উপাদানগুলো সাম্যাবস্থায় থাকে। আয়ূর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থায় শঙ্খচূর্ণ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শঙ্খ চূর্ণ ক্যালসিয়া, ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ ধারণ করে যা পেটের পিড়া দূর করে পরিপাক ব্যবস্থাকে সচল রাখে। শঙ্খের সাথে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সমাহারে তৈরী বড়ি “শঙ্খবতী” যা “ডিসপেপসিয়া” নামক অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় ফলদায়ক। এটি বাত, পিত্ত দমন এবং সৌন্দর্য ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
পবিত্র অথর্ববেদের শঙ্খমণি (অথর্ববেদ ৪/১০) সুক্তে শঙ্খমণির বর্ণনা এসেছে।
মূলত এই সুক্তে শঙ্খ শব্দের অর্থ পরমেশ্বরকে বুঝানো হয়েছে। যিনি আমাদের মৃত্যু ভয় থেকে রক্ষা করেন। শঙ্খ = শমেঃ খঃ। শম আলোচনে = বিবেচনে। শমো দর্শনে। শমু উঁপশম, শান্তিকরনে খ প্রত্যয়। অর্থাৎ সবার বিচারকর্তা, দর্শনকারী, শান্তিদায়ক পরমেশ্বর। কারন সেই সুখস্বরূপ পরমেশ্বরই আমাদের রোগ তথা দুষ্কর্ম থেকে রক্ষা করতে পারেন।
শ্রীশ্রীচণ্ডী
সিংহস্থা শশিশেখরা মরকতপ্রখ্যা চতুর্ভির্ভুজৈঃ
শঙ্খং চক্রধনুঃশরাংশ্চ দধতী নেত্রৈস্ত্রিভিঃ শোভিতা ।
আমুক্তাঙ্গদ-হার-কঙ্কণ-রণৎ-কাঞ্চীক্বণন্নূপুরা
দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রত্নোল্লসৎকুণ্ডলা ।।
(শ্রীশ্রীচণ্ডী, মহাসরস্বতীর ধ্যান, শ্লোক–২)
অনুবাদঃ— সিংহারূঢ়া শশিশেখরা, মরকতমণির তুল্য প্রভাময়ী, চারিহস্তে শঙ্খ, চক্র ও ধনুর্বাণ ধারিণী, ত্রিনয়ন দ্বারা শোভিতা, কেয়ূর, হার ও বলয় এবং মৃদু-মধুর ধ্বনিযুক্তা চন্দ্রহার ও নূপুর পরিহিতা এবং রত্নে উজ্জ্বল কুণ্ডল ভূষিতা দুর্গা আমাদের দুর্গতি নাশ করুন।


0 coment rios: